আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানসহ এই অঞ্চলে ২৭০ জনেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে ‘শাজারেহ তাইয়্যেবা এলিমেন্টারি স্কুল’-এ মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই হামলায় ১২০ জন শিশুসহ মোট ১৫৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ভুল গোয়েন্দা তথ্য ও নির্বিচার হামলা
আমনেস্টির ক্রাইসিস এভিডেন্স ল্যাব এবং ইরান টিমের স্যাটেলাইট চিত্র, বোমার ধ্বংসাবশেষের ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনী একটি নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে স্কুলটিতে এই হামলা চালায়। অথচ স্কুল ভবনটি গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি বেসামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ খুব সহজেই এটি জানতে পারত, কিন্তু তারা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (DIA) তাদের সেন্ট্রাল কমান্ডকে পুরোনো এবং ভুল তথ্য সরবরাহ করেছিল। স্কুলটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) একটি নৌঘাঁটির পাশে অবস্থিত হওয়ায় পুরোনো তথ্য ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একটি কার্যকর স্কুলে এভাবে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের শামিল।
একই স্থানে বারবার হামলা
মিনাব শহরের বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি যখন স্কুলের মাঠে আঘাত হানে, তখন শিক্ষকরা আতঙ্কিত শিশুদের বাঁচাতে স্কুলের একটি প্রার্থনা কক্ষে নিয়ে যান এবং অভিভাবকদের খবর দেন। কিন্তু এর পরপরই দ্বিতীয় ও তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেখানে আবারও হামলা চালানো হয়। ফলে শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ২৬ জন নারী শিক্ষক এবং কয়েকজন অভিভাবকও প্রাণ হারান।
জবাবদিহিতার দাবি
আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি মার্কিন কর্তৃপক্ষের ঘোষিত তদন্ত প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছে, যাতে এর ফলাফল সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ধ্বংসলীলা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে CNN-News18 এর প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন, যেখানে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রাথমিক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
পুলকিত বাংলাদেশ প্রতিদিনের খবর, প্রতি মুহূর্তের আপডেট
