ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তীব্র জনবিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি হাসপাতালের প্রশাসনিক তদারকি এবং রোগী নিরাপত্তার নিয়মকানুন নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনা ও প্রাথমিক তদন্তের তথ্য
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ছয়টি শিশু মারা যায়। শুরুতে এই ঘটনার পেছনে চরম চিকিৎসা অবহেলা বা জনবল সংকটের বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিলেও, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে হাসপাতালের পরিবেশগত বা যান্ত্রিক ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে এক অভিভাবকের অনুরোধে ওয়ার্ডের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছিল। বদ্ধ ঘরের ভেতরে কোনো গ্যাস লিক হয়েছিল কিনা কিংবা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল কিনা—তা এই মর্মান্তিক পরিণতির মূল কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সরকারের পদক্ষেপ এবং তদন্ত কমিটি
জনগণের ক্ষোভের মুখে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য একটি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ করে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি এই হাসপাতালের যেকোনো ধরণের কাঠামোগত বা পরিচালনাগত গাফিলতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন:
“এই ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাসপাতালের বিরুদ্ধে সব ধরণের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গণঅসন্তোষ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা
এই দুঃখজনক ঘটনাটি দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিহতের আত্মীয়-স্বজন এবং সাধারণ নাগরিকরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এবং চিকিৎসা বা প্রশাসনিক অবহেলার জন্য কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
৭২ ঘণ্টার এই তদন্ত চলমান থাকায়, তদন্তকারীরা হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ লগ, বায়ু চলাচল (ভেন্টিলেশন) ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার নিয়মাবলি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। একটি সাধারণ অনুরোধ কীভাবে এমন বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নিল, তা বের করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।
পুলকিত বাংলাদেশ প্রতিদিনের খবর, প্রতি মুহূর্তের আপডেট