রোগীকে অচেতন করার উপকারিতা ও পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া



রোগীকে অচেতন করা বা অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে শরীরের কোনো অংশ বা পুরো শরীরকে অবশ করে দেওয়া হয়। সাধারণত, শল্য চিকিৎসা বা কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষার সময় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

অচেতন করার উপকারিতা

  • ব্যথা অনুভূতি দূর করা: শল্য চিকিৎসার সময় রোগী যাতে কোনো ব্যথা অনুভব না করে, সেজন্য অচেতন করা হয়।
  • শরীরের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ: শল্য চিকিৎসার সময় শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যেমন হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ইত্যাদি।
  • চিকিৎসকদের জন্য সুবিধা: অচেতন অবস্থায় রোগীর শরীরের উপর চিকিৎসকরা সহজেই বিভিন্ন ধরনের শল্য চিকিৎসা করতে পারেন।
  • মানসিক চাপ কমানো: শল্য চিকিৎসার আগে রোগীরা যে মানসিক চাপ অনুভব করে, তা অচেতন করার মাধ্যমে কমানো যায়।

অচেতন করার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া

অচেতন করার পর কিছু সাধারণ পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন:

  • মাত্রাতিরিক্ত ঘুম: অ্যানেস্থেশিয়া কাটতে কিছু সময় লাগতে পারে, ফলে রোগী দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে থাকতে পারেন।
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া: অ্যানেস্থেশিয়ার কারণে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে।
  • মাথা ব্যথা: অনেক রোগীর অ্যানেস্থেশিয়ার পর মাথা ব্যথা হতে পারে।
  • বেদনাবোধ: অ্যানেস্থেশিয়া কাটার পর অস্ত্রোপচারের জায়গায় কিছুটা বেদনাবোধ হতে পারে।
  • মুখে অদ্ভুত স্বাদ: অ্যানেস্থেশিয়ার ওষুধের কারণে মুখে অদ্ভুত স্বাদ অনুভূত হতে পারে।
  • বমি বমি ভাব: কখনো কখনো অ্যানেস্থেশিয়ার পর বমি বমি ভাব হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াও হতে পারে, যেমন:

  • অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া: অ্যানেস্থেশিয়ার ওষুধের প্রতি অ্যালার্জি হলে গুরুতর সমস্যা হতে পারে।
  • হৃদস্পন্দন ও শ্বাসকষ্ট: কখনো কখনো অ্যানেস্থেশিয়ার কারণে হৃদস্পন্দন ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে।

অ্যানেস্থেশিয়ার আগে ডাক্তারকে জানাতে হবে:

  • আপনার স্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ ইতিহাস: আপনার কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ, অ্যালার্জি বা ওষুধের প্রতি সংবেদনশীলতা আছে কি না তা ডাক্তারকে জানাতে হবে।
  • আপনি যেসব ওষুধ খান: আপনি যেসব ওষুধ খান, সেগুলোর তালিকা ডাক্তারকে দিতে হবে।
  • আপনার শেষ খাবার: অ্যানেস্থেশিয়ার আগে নির্দিষ্ট সময় থেকে কিছু না খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মনে রাখবেন: অ্যানেস্থেশিয়া একটি নিরাপদ পদ্ধতি, তবে কিছু ঝুঁকি থাকে। তাই অ্যানেস্থেশিয়ার আগে ডাক্তারের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি।

About মোঃ আল মাহমুদ খান

Check Also

২০২৫-এ খালেদা জিয়ার সংকটময় স্বাস্থ্য অবস্থা: আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে চিকিত্সাধীনা বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমান পরিস্থিতি

২০২৫-এ খালেদা জিয়ার সংকটময় স্বাস্থ্য অবস্থা: আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে চিকিত্সাধীনা বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমান পরিস্থিতি

ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অবস্থা সংকটময় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *