ভারতের ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশি নাগরিকের নৃশংস হত্যায় বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা



ঘটনার সূচনা

২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যেখানে তিনজন বাংলাদেশি নাগরিককে স্থানীয় গ্রামবাসীদের একটি উত্তেজিত জনতা কথিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনাটি খোয়াই জেলার কারেঙ্গিছড়া এলাকায় ঘটে, যা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত। একাধিক যাচাইকৃত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা গরু পাচারের সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর নিহতদের মরদেহ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের বাল্লা স্থলবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সমন্বয়ে ত্রিপুরা রাজ্য পুলিশ এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই ধরনের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সাধারণ হলেও, এটি সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং গরু পাচারের মতো অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে।

এই ঘটনা দুই দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে, যেখানে প্রথম আলো, ইত্তেফাক এবং হিন্দুস্তান টাইমসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর একটি তীব্র বিবৃতি জারি করে, হত্যাকাণ্ডকে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে। এই প্রতিক্রিয়া বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ন্যায়বিচারের পক্ষে সরকারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে।

মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত

বিজিবির হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, তিন বাংলাদেশি নাগরিক ঘটনার দুই-তিন দিন আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিদ্যাবিল এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। তারা একটি প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থান করছিলেন যখন স্থানীয়রা গরু চুরির সন্দেহে তাদের মুখোমুখি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং পুলিশের প্রতিবেদন অনুসারে, সংঘর্ষ শুরু হয় এবং গ্রামবাসীরা তিনজনকে আক্রমণ করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) রয়েছে, এই ঘটনাকে গ্রামবাসীদের প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছে। এমইএর মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশি নাগরিকরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে গরু চুরির চেষ্টা করেছিলেন এবং স্থানীয়দের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন, যার ফলে দুজন ভারতীয় গ্রামবাসী আহত হন। এই বর্ণনা বাংলাদেশি প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে জনতার নৃশংস আক্রমণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং নিহতদের আক্রমণাত্মক কোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

ভারতীয় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খোয়াই জেলার সাম্পাহার থানায় ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পাঠানো ছবি বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়, যার জন্য পরিবারের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়। এই যাচাই প্রক্রিয়া সঠিক হস্তান্তর নিশ্চিত করে এবং দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত প্রোটোকলের প্রক্রিয়াগত দিকগুলো তুলে ধরে।

নিহতদের পরিচয়

তিনজন নিহতই হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং তাদের পরিচয় পরিবারের নিশ্চিতকরণ ও সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। জুয়েল মিয়া, বয়স প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ বছর, আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং আশ্বব আলীর ছেলে। স্থানীয়রা তাকে দিনমজুর হিসেবে বর্ণনা করলেও, প্রাথমিক তদন্তে তার সীমান্ত পারাপারের কার্যকলাপে জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পতি মিয়া, যিনি কিছু প্রতিবেদনে পণ্ডিত মিয়া নামে পরিচিত, বয়স ৪০ থেকে ৪৫ বছর, বাসুল্লা গ্রামের বাসিন্দা এবং কনা মিয়ার ছেলে। তিনিও দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন এবং তার পরিবার জানিয়েছে, তার পাচারের কোনো পূর্ব ইতিহাস ছিল না। তৃতীয় নিহত সজল মিয়া, সবচেয়ে কম বয়সী, বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর, কবিলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং কদ্দুস মিয়ার ছেলে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পাঠানো ছবির মাধ্যমে তার পরিবার তাকে শনাক্ত করে, যা আক্রান্ত সম্প্রদায়ের ওপর মানসিক আঘাতের তীব্রতা তুলে ধরে।

চুনারুঘাটের গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তারেকুর রহমান পরিচয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছেন এবং প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছেন। নিহতদের পরিবার বিজিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যারা আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে যাতে কোনো সম্ভাব্য দাবি বা তদন্তে সহায়তা করা যায়। এই ব্যক্তিগত প্রোফাইলিং ট্র্যাজেডির মানবিক দিকটি তুলে ধরে এবং সীমান্ত পারাপারে জড়িত ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক পটভূমি প্রকাশ করে।

বাংলাদেশের সরকারি প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা

২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জারি করা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই “জঘন্য কাণ্ড” নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিবৃতিতে জনতার সহিংসতাকে অগ্রহণযোগ্য এবং মানবাধিকার ও আইনি নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ভারত সরকারকে এই বিষয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করে দোষীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় এই ধরনের অমানবিক কাজের পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে, এই বলে যে জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রত্যেক ব্যক্তি, এমনকি অসাবধানতাবশত সীমান্ত পার হলেও, তাদের মানবাধিকারের পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৫৫ বিজিবি (হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক তথ্য প্রদান করেন, উল্লেখ করে যে নিহতরা সম্ভবত গরু পাচারের উদ্দেশ্যে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে, তিনি বিএসএফ-এর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চলমান প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন, যা কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তথ্যের নির্ভুলতার প্রতি অঙ্গীকার প্রকাশ করে।

ভারতের দৃষ্টিকোণ ও বিবৃতি

ভারতীয় পক্ষ থেকে, এমইএ ঘটনাটিকে পাচার কার্যকলাপের পরিণতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি ব্রিফিংয়ে জানান, তিন বাংলাদেশি পাচারকারী অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে গরু চুরির চেষ্টা করেন এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন, যার ফলে তাদের মৃত্যু হয়। তিনি দুজন ভারতীয় নাগরিকের আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন, ঘটনাটিকে অপ্রীতিকর সহিংসতার পরিবর্তে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ত্রিপুরা পুলিশের প্রতিবেদন এই বক্তব্য সমর্থন করে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সংঘর্ষটি একটি সীমান্ত গ্রামে ঘটে, যেখানে গরু পাচার ব্যাপক। গ্রামবাসীদের মধ্যে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, কারণ তদন্ত এই পদক্ষেপগুলোকে সম্পত্তি রক্ষার জন্য হিসেবে দেখছে। এই ভিন্ন বর্ণনা কূটনৈতিক আলোচনাকে উসকে দিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ পাচারের অভিযোগকে হত্যার জন্য অযাচাইকৃত ন্যায্যতা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মতো ভারতীয় গণমাধ্যমে স্থানীয়দের আঘাত এবং অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে প্রকাশিত খবর সরকারি বক্তব্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই বিবরণগুলো পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদনগুলোর মীমাংসা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য যৌথ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও গরু পাচারের বৃহত্তর সমস্যা

৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত তার ছিদ্রময় প্রকৃতির কারণে পাচার, মানব পাচার এবং অননুমোদিত সীমান্ত পারাপারের ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে গরু পাচার একটি বিতর্কিত বিষয়, কারণ ভারত ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কারণে গরু রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই ঘটনা উদাহরণ হিসেবে দেখায় কীভাবে স্থানীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, যা আনুষ্ঠানিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বাইপাস করে।

দুই দেশেরই প্রচেষ্টার মধ্যে রয়েছে বিএসএফ এবং বিজিবি-র মধ্যে নিয়মিত ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে এই ধরনের উদ্বেগ মোকাবেলা করা। তবে, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং বাংলাদেশে গরুর মাংসের চাহিদা এই অবৈধ কার্যকলাপকে উৎসাহিত করে, যা প্রায়শই হবিগঞ্জের মতো সীমান্ত জেলার দরিদ্র ব্যক্তিদের জড়িত করে। সীমান্তে বেড়া শক্তিশালী করা এবং গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ঝুঁকি কমাতে পারে, তবে আর্থ-সামাজিক হস্তক্ষেপও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, যৌথ টহল ঘটনা কমিয়েছে, তবে প্রত্যন্ত এলাকায় জনতার বিচার এখনও একটি চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনা সীমান্ত অপরাধের জন্য আইনি কাঠামো জোরদার করার বিষয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।

অতীতের অনুরূপ সীমান্ত ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

এই ঘটনার গুরুত্ব বোঝার জন্য, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অতীতের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নিম্নে পুনরাবৃত্তিমূলক নিদর্শন তুলে ধরা হলো:

  • ২০১৯ ফেলানী খাতুন মামলা: এক কিশোরী বাংলাদেশি মেয়েকে সীমান্তের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং অ-প্রাণঘাতী সীমান্ত ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানায়। এটি সীমান্ত অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের দুর্বলতা তুলে ধরে এবং বেড়া প্রোটোকল নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সূত্রপাত করে।
  • ২০২১ মেঘালয়ে গরু পাচার সংঘর্ষ: পাচারের সন্দেহে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন। তদন্তে সংগঠিত নেটওয়ার্কের কথা প্রকাশ পায়, যা দুই পক্ষেই গ্রেপ্তারের দিকে নিয়ে যায়। এই মামলা এই ধরনের ঝুঁকির পেছনে অর্থনৈতিক চালক এবং সীমান্ত সম্প্রদায়ে বিকল্প জীবিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
  • ২০২২ সুনামগঞ্জে বিএসএফ গুলি: অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। বাংলাদেশ প্রতিবাদ জানায়, যার ফলে যৌথ তদন্তে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিশ্চিত হয়। এর পরিণামে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য যোগাযোগ চ্যানেল উন্নত হয়।
  • ২০২৩ পশ্চিমবঙ্গে মানব পাচার ঘটনা: বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি দলকে পাচারকারী ভেবে স্থানীয়রা আক্রমণ করে, যার ফলে একজনের মৃত্যু হয়। এটি সচেতনতা এবং আইনি সহায়তার জন্য এনজিও হস্তক্ষেপের দিকে নিয়ে যায়। এটি দেখায় কীভাবে ভুল তথ্য সংবেদনশীল এলাকায় সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে।
  • ২০২৪ আসামে পাচার অভিযান: তিনজন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি পাচারকারী জনতার আক্রমণে আহত হন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মৃত্যু এড়ায়। এই ঘটনা নজরদারি বাড়ানো এবং সতর্কতামূলক কার্যক্রম কমানোর জন্য সম্প্রদায় শিক্ষা কার্যক্রমের দিকে নিয়ে যায়।
  • ২০২৫-এর শুরুতে সিলেটে সীমান্ত সংঘর্ষ: গ্রামবাসীরা অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে আঘাত হয় তবে কোনো মৃত্যু হয়নি। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘটনার সমাধান করে, প্রতিরোধমূলক কূটনীতির ওপর জোর দেয়। এটি সময়ের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর কৌশলের অগ্রগতি প্রদর্শন করে।
  • ২০২৫-এর মাঝামাঝি ত্রিপুরায় গরু চুরি: বর্তমান ঘটনার মতো, দুই বাংলাদেশি পিটুনি খেয়েছিলেন কিন্তু পুলিশের হস্তক্ষেপে বেঁচে যান। এই মামলা পুনরাবৃত্ত জনতার সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং পাচারবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানায়।

এই উদাহরণগুলো অর্থনৈতিক প্রণোদনা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সীমান্ত-সংক্রান্ত সহিংসতার ধরন প্রকাশ করে। প্রতিটি ঘটনা কূটনৈতিক কৌশলের বিবর্তনের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে, যদিও এই ধরনের ট্র্যাজেডি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।

তদন্তের আহ্বান ও ভবিষ্যৎ পথ

বাংলাদেশ নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। অ্যাডভোকেসি গ্রুপ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো ১৯৭৫ সালের সীমান্ত নির্দেশিকা চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে এই দাবির সমর্থন করেছে। সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে যৌথ তথ্য-অনুসন্ধান মিশন এবং আস্থা তৈরির জন্য সম্প্রদায়ের সংলাপ।

ভারতের প্রতিক্রিয়া শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ভাগ করা ইতিহাসের আলোকে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশ্লেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে দারিদ্র্য এবং পাচারের মতো মূল কারণগুলোর সমাধানে সহযোগিতামূলক উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চায়, যা দ্রুত পদক্ষেপের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করতে পারে, মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সম্মতি নিশ্চিত করতে।

উপসংহার

এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আন্তর্জাতিক সীমান্তের ভঙ্গুরতা এবং সংঘাতের মানবিক সমাধানের জন্য জরুরি প্রয়োজনীয়তার একটি তীব্র স্মারক হিসেবে কাজ করে। দুই দেশ যখন এই সংকট মোকাবেলা করছে, তখন সংলাপ এবং ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভবিষ্যতের ক্ষতি রোধ এবং দ্বিপাক্ষিক বন্ধন জোরদার করার মূল চাবিকাঠি হবে।

About মোঃ আল মাহমুদ খান

Check Also

২০২৫-এ খালেদা জিয়ার সংকটময় স্বাস্থ্য অবস্থা: আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে চিকিত্সাধীনা বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমান পরিস্থিতি

২০২৫-এ খালেদা জিয়ার সংকটময় স্বাস্থ্য অবস্থা: আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে চিকিত্সাধীনা বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমান পরিস্থিতি

ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অবস্থা সংকটময় …

3 comments

  1. I’m amazed, I have to admit. Seldom do I come across a blog that’s
    equally educative and amusing, and let me tell you, you’ve hit the nail on the head.

    The problem is something too few folks are speaking intelligently about.
    I’m very happy that I came across this in my search for something regarding this.

  2. Phenjoy, not my usual jam, but it’s alright. I could say I had better, yet it is totally passable and might suit one’s needs. Give it a look: phenjoy

  3. Got the b9gameapk on my phone. Works great! Downloading was simple. Good for gaming on the go man, yeah b9gameapk.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *