পা ফাটার কারন ও প্রতিকার

পা ফাটার কারন ও প্রতিকার



প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের পা ফাটা

পায়ের তলা ফাটা পায়ের একটি সাধারণ সমস্যা। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্করা তাদের পায়ের ত্বক ফাটার সমস্যায় ভোগেন। এই সমস্যা প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে এবং এটি পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের ক্ষেত্রেই বেশি হয় বলে দেখা যায়।

যখন আপনার হিলের চারপাশের ত্বক শুষ্ক এবং মোটা হয়ে যায় তখন হিলের নীচে ফ্যাট প্যাডের উপর চাপ বাড়ার কারনে হিল ফাটতে পারে। স্থুলত্ত বেশ কয়েকটি কারনে যেমন হিল খোলা স্যান্ডেল পরা, শুষ্ক ত্বক এর কারনে হিল ফাটা বেড়ে যেতে পারে।

বেশিরভাগ মানুষের জন্য, পা ফাটা তেমন গুরুতর নয়। খালি পায়ে হাটার সময় কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, হিলের ফাটলগুলি খুব গভীর হয়ে যায় এবং ব্যথা হতে পারে। ফাটা অংশে ময়লা জমে থাকলে ইনফেকশন, চুলকানি হতে পারে।

পা ফাটার কারন ও প্রতিকার

ফাটা হিলের কারণ কী?

ফাটা হিলের প্রথম লক্ষণটি হচ্ছে আপনার হিলের পাতার চারপাশে শুকনো, ঘন হওয়া ত্বকের অঞ্চল রয়েছে যা কলাউস হিসাবে পরিচিত। আপনি চলতে চলতে আপনার হিলের নীচে ফ্যাট প্যাড প্রসারিত হয়। এর ফলে আপনার কলাউসগুলি ফেটে যায়।

পা ফাটার কারন ও প্রতিকার

পায়ের তলা ফাটার কারণগুলির হতে পারে –

  • দীর্ঘ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকা
  • খালি পায়ে, বা খোলা ব্যাক স্যান্ডেল পরে ঘুরে বেড়ানো
  • দীর্ঘক্ষন গরম পানিতে গোসল করা
  • অধিক ক্ষার সমৃদ্ধ সাবান ব্যবহার করলে তা আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে ত্বক শুষ্ক করে ফেলতে পারে।
  • জুতা যদি আপনার পায়ে সঠিকভাবে ফিট না হয়
  • আবহাওয়ার কারণে শুষ্ক ত্বক, যেমন ঠান্ডা তাপমাত্রা বা কম আর্দ্রতা
  • আপনি যদি নিয়মিত আপনার পা ময়শ্চারাইজ না করেন তবে পায়ের তলা দ্রুত শুকিয়ে ফেটে যেতে পারে।


পা ফাটার শারীরিক কারন –

ডায়াবেটিসের ফলে রক্তে উচ্চ শর্করা এবং দুর্বল সঞ্চালন শুষ্ক ত্বকের সাধারণ কারণ। ক্ষতিগ্রস্ত নার্ভের কার্বনে আপনি আপনার পায়ের শুষ্কতা এবং ফাটল সম্পর্কে অনাবগত থাকতে পারেন

শুকনো ত্বক এবং পা ফাটার অন্যান্য কারনগুলি হচ্ছে –

  • ভিটামিনের ঘাটতি
  • ছত্রাক সংক্রমণ
  • হাইপোথাইরয়েডিজম
  • আটোপিক ডারমাটাইটীস
  • কিশোর প্লান্টার ডার্মাটোসিস
  • সোরিয়াসিস
  • পামোপ্ল্যান্টার কেরোটোডার্মা, পায়ের ত্বক অস্বাভাবিক ঘন হয়ে যাওয়া
  • মোটা শরীর
  • গর্ভাবস্থা
  • বার্ধক্য

আপনি পা ফাটার চিকিৎসা যত তিব্রভাবেই চাননা কেন, যেকোন ঘরোয়া প্রতিকার নেবার আগে আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন। এটি প্রেসক্রিপশন বা ওষুধের ওষুধ সেবন করলে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কিছু ওষুধ তা প্রভাবিত করতে পারে। এবং মনে রাখবেন যে ইন্টারনেটে পাওয়া অনেক ধরনের পা ফাটার সমাধানের পেছনে ভালো কোনও গবেষণা নেই।

ফাটা পায়ের ঘরোয়া চিকিৎসা – হিল বাম বা ঘন ময়শ্চারাইজার

পা ফাটার সর্বপ্রথম চিকিৎসা হিসেবে ধরা যায় হিল বাম কিংবা ঘন ময়শ্চারাইজারকে । এই বামগুলিতে পায়ের মৃত ত্বককে নরম এবং উদ্দেলিত করার উপাদান রয়েছে। নিম্নলিখিত উপাদানগুলি সন্ধান করুন:

ইউরিয়া (ফ্লেক্সিটল হিল বাল্ম)
স্যালিসিলিক অ্যাসিড (কেরাল)
আলফা-হাইড্রোক্সি অ্যাসিড (অ্যাম্ল্যাকটিন)
স্যাকারাইড আইসোমেরেইট

আপনি কোনও ওষুধের দোকানে বা অনলাইন ওষুধের শপে এ ধরনের পায়ের বাম খুঁজে পেতে পারেন।

আপনার দিন শুরু করার আগে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর জন্য সকালে হিল বাম প্রয়োগ করুন।

দিনে দুই থেকে তিনবার আপনার হিলটি ময়শ্চারাইজ করুন।

আপনার গোড়ালি রক্ষা করে বা ভালো করে ঢেকে রাখে এমন জুতা পরুন।

কিছু কিছু হিল বামের কারণে ত্বকে সামান্য জ্বালাপোড়া হতে পারে। চিন্তার কিছু নেই, এটি সাধারণ একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। যদি বাম আপনাকে বিরক্ত করে বা তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তবে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। ফাটা হিলগুলির গুরুতর প্রদাহ কমাতে এবং চুলকানি উপশম করতে স্টেরয়েড ক্রিমের প্রয়োজন হতে পারে কিংবা ডাক্তারের দেয়া অন্য ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার পা ভিজিয়ে রেখে এক্সফোলিয়েট করুন

ফাটা হিলের চারপাশের ত্বক প্রায়শই আপনার বাকী ত্বকের চেয়ে ঘন এবং শুষ্ক হয়। আপনি চাপ প্রয়োগ করলে এই ত্বক ফেটে আলাদা হয়ে যায়। আপনার পা ভেজা থাকলে এক্ষেত্রে তা উপকার করতে পারে।

আপনার পা হালকা গরম সাবান পানিতে ২০ মিনিটের জন্য রাখুন।

ফেটে যাওয়া বাড়তি ত্বক অপসারণ করতে পিউমিস পাথর কিংবা পা মাজার ব্রাশ ব্যবহার করুন। ধীরে ধীরে আপনার পা শুকান। এরপর আক্রান্ত স্থানে হিল বাম বা ঘন ময়শ্চারাইজার লোশন লাগান।

পায়ের তলার আর্দ্রতা বজায় রাখতে করতে আপনার পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলি প্রয়োগ করুন। আশেপাশে কোনও জেলি ছড়িয়ে পড়ার ঠেকানোর জন্য মোজা পড়ুন। আপনার পা শুকিয়ে গেলে চামড়ায় ঘষা লাগানো এড়িয়ে চলুন। আপনি পায়ের জন্য স্পেশাল মোজা ব্যবহার করতে পারেন। এসব মোজায় উপকারি তেল এবং ভিটামিন দেয়া থাকে এই শুস্ক ত্বক সুস্থ করার জন্য।

মধু

মধু ফাটা হিলের প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসাবে কাজ করতে পারে। ২০১২ সালের একটি নির্ভরযোগ্য গবেষনায় জানা গেছে যে মধুতে প্রাপ্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুনগুলো ফাটা পা নিরাময় করে।

গবেষণায় দেখা যায় যে মধু ক্ষত নিরাময় এবং পরিষ্কার করতে এবং ত্বককে ময়শ্চারাইজ করতে সহায়তা করে। পা ভিজানোর পরে আপনি পায়ের স্ক্রাব হিসাবে মধু ব্যবহার করতে পারেন, কিংবা মধু মাখিয়ে পুরো রাত পা ঢেকে রাখতে পারেন।

নারকেল তেল

নারকেল তেল প্রায়শই শুষ্ক ত্বক, একজিমা এবং সোরিয়াসিসের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি আপনার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। পায়ের তলা ভালোভাবে ধোয়ার পরে নারকেল তেল ব্যবহার করাও বেশ উপকারী। নারকেল তেলের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলি আপনার ফাটা পায়ের ব্যথা ও রক্তপাতের ঝুকি কমাতে পারে।

অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রতিকার

ফাটা হিলগুলির জন্য আরও অনেক ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে, যদিও কোনটিই পা ফাটা প্রতিরোধে বিশেষভাবে প্রমাণ নিরাময় নয়। বেশিরভাগ উপাদানগুলিই ত্বককে ময়শ্চারাইজিং এবং নমনীয় করার কাজই করে থাকে।

এসব ঘরোয়া উপায়ের মধ্যে রয়েছে যেমন –

ভিনেগার, পা ভিজানোর জন্য
জলপাই বা উদ্ভিজ্জ তেল, ময়শ্চারাইজ করার জন্য
মাখন, ময়শ্চারাইজ করার জন্য
ব্লেন্ড করা কলা, ময়শ্চারাইজ করার জন্য
প্যারাফিন মোম, আর্দ্রতা আটকে রাখার জন্য
ওটমিল, এক্সফোলিয়েশনের জন্য তেলের সাথে মিশ্রিত করে ব্যবহার করুন

পা ফাটা প্রতিরোধের অন্যান্য উপায়:

একই অবস্থানে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।

রাতে পায়ের তলায় ঘন ক্রিমের উপর আর্দ্রতাতে লক করতে পলিথিন জাতীয় মোজা দিয়ে আপনার পা ঢেকে রাখুন।

যদি আপনার ডায়াবেটিস বা অন্য কোনও মেডিক্যাল পরিস্থিতি থাকে আপনার পা প্রতিদিন ভালভাবে দেখুন, বিশেষত যা ত্বকের কারণ হয়।

ভাল মানের বা ক্লিনিকালি পরীক্ষিত প্যাডেড মোজা পরুন। হিলকে ময়শ্চারাইজড রাখতে সিলিকন হিল কাপগুলি ব্যবহার করুন এবং হিল প্যাডকে প্রসারিত হওয়া থেকে বিরত রাখতে সহায়তা করুন। হাইড্রেটেড থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন।

ত্বক ঘন হওয়া রোধ করতে সপ্তাহে কয়েকবার স্নানের পরে পিউমিস স্টোন ব্যবহার করুন। তবে ডায়াবেটিস বা নিউরোপ্যাথি থাকলে নিজেই ফাটা অংশ অপসারণ করবেন কারন আপনি নিজের অজান্তেই একটি ক্ষত তৈরি করতে পারেন এবং আপনার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

সতর্কতা

পা ফাটা যদি অন্য কোন শারীরিক সমস্যার কারণে হয়ে থাকে তবে নিজে থেকে ট্রিটমেন্ট করবেন না এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

source : internet

About মোঃ আল মাহমুদ খান

Check Also

অনিয়মিত পিরিয়ড কেন হয় ? অনিয়মিত মাসিক এর কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা

অনিয়মিত ঋতুস্রাব একটি সাধারণ সমস্যা যা বিভিন্ন কারণেই হতে পারে। এর ফলে মাসিক চক্রের সময় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *