ভূমিকা
অনেকে প্রশ্ন করেন — গর্ভবতী হওয়ার পর “মাসিক বন্ধ হওয়া” কখন ঘটে? অর্থাৎ গর্ভধারণের কয় দিন পর সাধারণভাবে মেনস্ট্রুয়েশন বন্ধ হয়ে যায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে মানব প্রজনন, হরমোন পরিবর্তন ও গর্ভাবস্থার শারীরবৃত্তীয় অঙ্গবিন্যাস ভালোভাবে বোঝা জরুরি। নিচে আমি **সর্বশেষ চিকিৎসাবিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য** নির্ভরশীল উৎস থেকে বিশ্লেষণ রেখে জানাব, কখন এবং কেন মেনস্ট্রুয়েশন বন্ধ হয়ে যায়, এবং কোন ক্ষেত্রে “মাসিকের রক্তপাত” হতে পারে — যা প্রকৃত মাসিক নয় — সেই পার্থক্য কী।
মাসিক (মেনস্ট্রুয়েশন) কী ও এর নিয়মিত প্রক্রিয়া
প্রথমে মূল বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার: মেনস্ট্রুয়েশন হচ্ছে যৌনাঙ্গীয় চক্রের একটি অংশ, যেখানে ডিম্বানু উত্থাপন ও নিষিক্ত না হলে গর্ভাশয়ের পুরু হয়ে ওঠা এন্ডোমেট্রিয়াম (uterine lining) শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এটি সাধারণভাবে ২১–৩৫ দিনের মাঝে একটি নিয়মিত চক্র হিসেবে ঘটে। যদি গর্ভধারণ না ঘটে, শিখরে পৌঁছানো হরমোনগুলো (ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন) হ্রাস পায় এবং গর্ভাশযের পুরু আবরণ শোষিত হতে না পারলে তা রক্তসহ ছড়িয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে — সেটাই “মাসিক”।
তবে গর্ভধারণ হলে এ প্রক্রিয়া থেমে যায়, কারণ গর্ভাবস্থার সময় গর্ভাশয়ের আবরণ রক্ষা করতে হবে যাতে ভবিষ্যত ভ্রূণ সেখানে গজাতে পারে। বলা যায়, একবার গর্ভধারণ হলে শারীরিকভাবে মাসিক হওয়া সম্ভব নয় — তবে কিছু ক্ষেত্রে “রক্তপাত” বা “স্পটিং” ঘটতে পারে, যা প্রকৃত মেনস্ট্রুয়েশন নয়।
গর্ভধারণ হলে মেনস্ট্রুয়েশন কেন বন্ধ হয়?
গর্ভধারণের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের হরমোন বিন্যাস পরিবর্তিত হয়। ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরীণ আবরণ (endometrium) থেকে সংযুক্ত হয়। তখন এ আবরণ শোষিত বা ঝরতে দেয়া হবে না। এন্ডোমেট্রিয়াম গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেনের উচ্চ মাত্রা বজায় রাখা হয়। এই কারণে মাসিক রক্তপাত ঘটানো হবে না।
চিকিৎসা-জানিবুঝি তথ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় মূল হরমোনগুলোর (প্রোজেস্টেরন, এইচসিজি) বাধার কারণে ওবুলেশন (ডিম্বস্রবণ) বন্ধ হয়ে যায়। চক্রক্রিয়া অচল হয়, এবং এর ফলে মাসিক চক্র কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যায়। রোগবিজ্ঞান ভিত্তিক একটি গবেষণা সূচিত করে — মাসিক নবায়ন প্রক্রিয়া গর্ভাবস্থার সময় বন্ধ হয়ে যায়, যদি রক্তপাত ঘটে, তা হয় অন্য কারণবশত্।
অর্থাৎ, গর্ভাবস্থার কয়দিন পর “মাসিক বন্ধ হয়” — উত্তর হলো: গর্ভধারণের সঙ্গে সঙ্গে (প্রায় সেই মাসিকের আগে বা সময়), অর্থাৎ তখন থেকে। অর্থাৎ, অনুমান করা যেতে পারে, প্রথম মাসিকের দিনগুলিতে বা গর্ভাবস্থার শুরুতেই মেনস্ট্রুয়েশন বন্ধ হয়ে যায়।
স্পটিং বা রক্তপাত — কখন “মাসিক” নয়?
গর্ভধারণের পরেও অনেক নারী কিছু মাত্রায় **স্পটিং বা লাল রঙের সোপানীয় রক্তপাত** দেখতে পারেন। কিন্তু এটি প্রকৃত মেনস্ট্রুয়েশন নয়। মেডিক্যাল রেফারেন্স যেমন Cleveland Clinic স্মরণ করায়, গর্ভাবস্থায় হালকা রক্তপাত বা স্পটিং ঘটতে পারে এবং তা সব সময় বিপজ্জনক নয়।
নিচে এমন কয়েকটি কারণ দেওয়া হলো যেগুলোর জন্য গর্ভাবস্থায় রক্তপাত হতে পারে, মাসিক নয়:
- ইমপ্লানটেশন ব্লিডিং: ডিম্বাণু গর্ভাশয়ে বসার সময় সামান্য রক্তপাত হতে পারে; এটি প্রায়ই মাসিকের সময়বিন্দুর কাছাকাছি সময় ঘটে।
- গর্ভাশয়ের গলা (cervical) রক্তনালীর সংবেদনশীলতা: গর্ভাবস্থায় গলা বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, এবং শারীরিক স্পর্শ বা যৌন মিলন রক্তপাত ঘটাতে পারে।
- হরমোনজনিত পরিবর্তন: হরমোন অস্থিতিশীলতা কিছু সময় হালকা দাগ বা স্পটিং সৃষ্টি করতে পারে।
- বিভিন্ন গর্ভসংক্রান্ত জটিলতা: যেমন গর্ভপাত (miscarriage), প্লাসেন্টা প্রিভিয়া বা প্লাসেন্টাল আবর্জনা ইত্যাদি।
- সাবকোরিওনিক হেম্যাটোমা: গর্ভাশয় ও গর্ভস্থল বা প্লাসেন্টার মধ্যে রক্তজমাট যা রক্তপাত সৃষ্টি করতে পারে।
এইসব রক্তপাত সাধারণত হালকা হয়, কয়েক দিন থাকে এবং সাধারণ মাথাপিছু বা প্যাড ভর্তি হবে না। যদি রক্তপাত বেশি হয় বা ব্যথা থাকে, ডাক্তার পরামর্শ জরুরি।
প্রথম ত্রৈমাসিক (First Trimester) & রক্তপাতের ঘটনা
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে (প্রথম ত্রৈমাসিক) রক্তপাত হওয়া অপেক্ষাকৃত সাধারণ। কিছু পরিসংখ্যান বলে যে প্রায় ১৫–২৫% গর্ভধারণে রক্তপাত বা স্পটিং অভিজ্ঞ হয়। তবে এই রক্তপাত সব সময় গর্ভপাতের ইঙ্গিত নয়।
গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসে যেসব কারণে রক্তপাত হতে পারে: ইমপ্লানটেশন, হরমোন পরিবর্তন, গলা থেকে রক্তস্রাব, সাবকোরিওনিক হেম্যাটোমা, বিভিন্ন সংক্রমণ, বা গর্ভপাতের শুরু। যদি রক্তপাত বেশি হয়, পাথবহ্যস্ত টিস্যু বের হয় বা তীব্র পেইন থাকে, তা অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যোগাযোগ করার কারণ।
এই রক্তপাত সাধারণ মাসিকের মতো ধারাবাহিকভাবে বা পূর্ণরূপে হওয়া উচিত নয়। অনেকবার তা সাময়িকভাবে ঘটে এবং দ্রুত স্থির হয়।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিক এবং রক্তপাত
গর্ভধারণের মধ্য থেকে শেষ দিকে, অর্থাৎ দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকেও রক্তপাত হতে পারে, তবে সেটা অনেক বেশি সতর্কতার বিষয়। এমন কিছু কারণ আছে: প্লাসেন্টা প্রিভিয়া (যেখানে প্লাসেন্টা সার্বিক বা আংশিকভাবে গর্ভাশয়ের গলা ঢেকে দেয়), প্লাসেন্টাল আক্রমণ বা বিচ্ছিন্নকরণ (placental abruption), প্রি-পার্চুর লেবার (প্রচুর উৎপীড়ন), সার্ভিক্যাল ইরিটেশন ইত্যাদি। এই ধরনের রক্তপাত সাধারণত হালকা নয় এবং সঙ্গে ব্যথা, চাকা চাপ অনুভব হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে দ্রুত মেডিক্যাল হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এই ধরনের রক্তপাত সাধারণ মাসিক চক্রের মতো না — এটি গর্ভসংক্রান্ত জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।
কখন “মাসিক” বন্ধ হয়ে যায় — সারাংশ
গর্ভধারণ ঘটলে সাধারণভাবে **মাসিক ঠিক তখনই বন্ধ হয়ে যায়** — অর্থাৎ পরবর্তী মাসিক শুরু হবে না। কারণ গর্ভাবস্থায় দেহই সেই চক্র বন্ধ করে দেয়। যদি রক্তপাত বা স্পটিং ঘটে, সেটা সাধারণ মাসিক হিসেবে বিবেচিত হয় না।
সুতরাং প্রশ্ন “গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর মেনস্ট্রুয়েশন বন্ধ হয়?” — উত্তর হবে: **গর্ভধারণের সঙ্গে সঙ্গে, অর্থাৎ ওই মাসের বর্তমান চক্রে**। তবে কিছু নারী প্রথম কিছু দিন বা সপ্তাহে স্পটিং অনুভব করতে পারেন, যা মেনস্ট্রুয়েশন নয়।
যেসব মিথ ও বিভ্রান্তি এবং তাদের পরিষ্কার ব্যাখ্যা
অনেকে বিশ্বাস করেন, গর্ভাবস্থার ২–৩ মাস পার হলে সেই পর থেকে মাসিক বন্ধ হবে — এটি ভুল। প্রকৃতপক্ষে, মাসিক গর্ভধারণের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্কার্লিং, স্পটিং বা দাগ ধরা অনেক সময় মানুষের বিভ্রান্তির কারণ হয়।
আরেক ভুল ধ্যান হচ্ছে, গর্ভাবস্থায় যে রক্তপাত তা মাসিক হিসেবে ধরা — এটি ভুল। গর্ভাবস্থায় রক্তপাত প্রয়োজনীয় সতর্কবাণী হতে পারে এবং সেটি সবসময় নিরীহ নয়।
উপসংহার
গর্ভধারণ ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণ মেনস্ট্রুয়েশন বন্ধ হয়ে যায়। মাসিক রক্তপাত অর্থাৎ পুরো চক্রের মতো রক্তঝরনাও হয় না। যদি রক্তপাত বা স্পটিং ঘটে, সেটি প্রকৃত মাসিক নয় এবং বিভিন্ন কারণের দ্বারা হতে পারে — যেমন ইমপ্লানটেশন ব্লিডিং, গলাতে সংবেদনশীলতা, সাবকোরিওনিক হেম্যাটোমা, গর্ভসংক্রান্ত জটিলতা ইত্যাদি। গর্ভধারণ সংক্রান্ত সময়ে রক্তপাত হলে, তার মাত্রা, রঙ, স্থায়িত্ব ও সঙ্গে ব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ থাকা উচিৎ— সেসব বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। রোগবিজ্ঞান ভিত্তিক ও পরিচালকভাবে বলা যায়, “গর্ভবতী হওয়ার কয়দিন পর মাসিক বন্ধ হয়?” — তার সঠিক উত্তর হলো: **গর্ভধারণের সঙ্গে সঙ্গে, অর্থাৎ সেই মাসিক থেকেই বন্ধ হয়ে যায়।**
পুলকিত বাংলাদেশ প্রতিদিনের খবর, প্রতি মুহূর্তের আপডেট
Yo, 17games seems to have a decent collection of games to keep you entertained. Might just spend some time chilling here. See ya! 17games
Betmasters…sounds prestigious! Let’s see what strategies or tips they’re offering. Head over to: betmasters